সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন সামরিক জোট: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :ইরানকে নিবৃত্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। ন্যাটোর আদলে গড়া এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

পবিত্র শহর মক্কায় তিন সুন্নি দেশের এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তেহরান ও তাদের মিত্র হুতিরা হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে। অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও তার মিত্রদের ছোড়া মিসাইল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। মার্কিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেই এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে রিয়াদ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, তিন দেশের সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। তেলসমৃদ্ধ সৌদির বিপুল সম্পদ থাকলেও সামরিক সক্ষমতা বেশ কম। তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি থাকলেও তাদের প্রয়োজন বড় বাজার ও বিনিয়োগ। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিশাল সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতা থাকলেও তাদের রয়েছে অর্থসংকট। ফলে এই চুক্তির মাধ্যমে তারা মূলত একে অপরের ঘাটতি পূরণ করবে।

তবে ইরান যদি সৌদিতে হামলা করে, তবে তুরস্ক বা পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ করবে—এমন সম্ভাবনা বেশ কম। তারা মূলত নিজেদের ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো তাদের মূল লক্ষ্য নয়; বরং ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের জন্যই এটি একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলকে যুক্ত করে অঞ্চলে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা করে আসছে। তবে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট সেই মার্কিন পরিকল্পনাকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলি আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক শুরু থেকেই ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক। আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোট মূলত ইরানি আধিপত্য ও ইসরায়েলি শ্রেষ্ঠত্বের প্রকল্পে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে।

সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» পার্লামেন্টই হবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু, বিরোধীদলকে সম্পাদকদের পরামর্শ

» চবিকে ১০টি নতুন বাস উপহার দিচ্ছে জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশন

» রাষ্ট্রপতির সহকারী একান্ত সচিব হলেন ইউনুস আলী

» তারেক রহমান আমাদের কাজী নজরুল: চিফ হুইপ

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধান বিচারপতির সাক্ষাৎ

» মেয়েদের সার্বজনীন উপবৃত্তি পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌদির রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

» প্রথম সফরে ঠাকুরগাঁও যাবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

» স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে এনসিপি: সারজিস আলম

» রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমাবেশে অনুমতি না দেওয়ার প্রতিবাদ এনসিপির

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নতুন সামরিক জোট: মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে কী প্রভাব পড়বে?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক :ইরানকে নিবৃত্ত করা, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং ইসরায়েলকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়ার লক্ষ্যে নতুন সামরিক জোট গঠন করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। ন্যাটোর আদলে গড়া এই চুক্তিতে বলা হয়েছে, কোনো এক দেশের ওপর হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।

পবিত্র শহর মক্কায় তিন সুন্নি দেশের এই চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ইরানকে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো তেহরান ও তাদের মিত্র হুতিরা হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করছে। অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটির উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরান ও তার মিত্রদের ছোড়া মিসাইল ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

এই বাস্তবতা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। মার্কিন প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় আঞ্চলিক শক্তিগুলোকেই এখন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। তাই তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে রিয়াদ।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক আন্দ্রেয়াস ক্রিগের মতে, তিন দেশের সক্ষমতা একে অপরের পরিপূরক। তেলসমৃদ্ধ সৌদির বিপুল সম্পদ থাকলেও সামরিক সক্ষমতা বেশ কম। তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি থাকলেও তাদের প্রয়োজন বড় বাজার ও বিনিয়োগ। অন্যদিকে পাকিস্তানের বিশাল সামরিক জনবল ও পারমাণবিক সক্ষমতা থাকলেও তাদের রয়েছে অর্থসংকট। ফলে এই চুক্তির মাধ্যমে তারা মূলত একে অপরের ঘাটতি পূরণ করবে।

তবে ইরান যদি সৌদিতে হামলা করে, তবে তুরস্ক বা পাকিস্তান পাল্টা আক্রমণ করবে—এমন সম্ভাবনা বেশ কম। তারা মূলত নিজেদের ‘স্থিতিশীলতা রক্ষাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো তাদের মূল লক্ষ্য নয়; বরং ইরান ও ইসরায়েল উভয়ের জন্যই এটি একটি বড় রাজনৈতিক ও প্রতীকী বার্তা।

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের মাধ্যমে ইসরায়েলকে যুক্ত করে অঞ্চলে একটি নিরাপত্তা বলয় তৈরির চেষ্টা করে আসছে। তবে নতুন এই প্রতিরক্ষা জোট সেই মার্কিন পরিকল্পনাকে পাশ কাটিয়ে ইসরায়েলি আধিপত্যকে প্রত্যাখ্যান করেছে। পাকিস্তান ও তুরস্ক শুরু থেকেই ইসরায়েলের কঠোর সমালোচক। আর স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন ছাড়া সৌদি আরবও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করার সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে। সব মিলিয়ে এই জোট মূলত ইরানি আধিপত্য ও ইসরায়েলি শ্রেষ্ঠত্বের প্রকল্পে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করবে।

সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com